সুপ্রভাত বগুড়া (জাতীয়): ভারতের রফতানি বন্ধ করার সংবাদে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। একদিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা হয়ে গেছে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারত গতকাল হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ল। গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

এবারও সেই সেপ্টেম্বরেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিল। এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়তি পেঁয়াজ কেনা শুরু করে দিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে বেনাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যায়। বিকেলে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। গত সপ্তাহ থেকে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও দাম বেড়ে ৪৫ টাকার দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা থেকে উঠে আসে ৬০ টাকায়।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অথচ গতকাল দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।এছাড়া দাম বাড়ার আশঙ্কায় খুচরা বিক্রেতা ও মুদির দোকানিরাও ভিড় করছেন খাতুনগঞ্জের আড়তে।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে বিয়ে, মেজবান, ওরসের দিন নির্ধারিত আছে এমন অনেক গ্রাহকও আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনে রাখছেন। এদিকে রামপুরায় ভ্যানে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা বিক্রি করছিলেন জয়নাল মিয়া। দুই মিনিটের মধ্যে তার সব পেঁয়াজ বিক্রি হয়ে যায়। এ বিষয়ে জয়নাল বলেন, আমার পেঁয়াজ গতকাল কেনা। কিছুটা লাভে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, একজন এসে পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলেন। আমি ৮০ টাকা বলতেই, তিনি পাঁচ কেজি পেঁয়াজ দিতে বলেন।

এরপর কয়েকজন এসে সব পেঁয়াজ কিনে নিলেন। এমন হুড়াহুড়ি করে পেঁয়াজ আমি আগে কখনো বিক্রি করিনি। কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেললাম কিনা জানি না। একই অবস্থা ঢাকার বাইরেও। গতকাল কিশোরগঞ্জের ত্রিশাল বাজার থেকে সুজা মিয়া নামের এক বিক্রেতা ফোনে অভিযোগ করেন, ত্রিশাল সদরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না।

তাঁরা দোকান বন্ধ করে চলে গেছেন। ফলে বাজারে অনেক ক্রেতার ভিড় জমে গেছে। তাঁর দাবি, অতিমুনাফার আশায় পাইকাররা বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, হুজুগে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে। এ কারণে অনেকে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here