বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ মহামারিতে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর বাজার থাকবে চীনের দখলে বিশ্লেষকদের মতামত। প্রতিকী-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (প্রচ্ছদ): কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চীনসহ সারাবিশ্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর বাজার গড়ে উঠেছে। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসলে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এজন্য নিয়মনীতি শক্তিশালী করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে দেশটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ মহামারিতে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর বাজার থাকবে চীনের দখলে। লস এঞ্জেলসের ব্যবসায়ী তাম্মাবাত্তুলা। মহামারিতে পুষ্টিসামগ্রী আর প্রসাধনীর উৎপাদন থেকে সরে এসে শুরু করেছেন মাস্ক আর স্যানিটাইজার উৎপাদন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন আর বিক্রি তার কাছে বেশ কঠিন। কারণ এখানে এমন কোন কোম্পানি খুঁজে পাওয়া ভার, যারা পাম্প হ্যান্ডেলের সাথে প্লাস্টিক বোতল তৈরি আর বিক্রি করে।

এজন্য তার চীন থেকে ব্যয়বহুল চাটার্ড ফ্লাইটে করে মেশিনটি আমদানি করতে হয়েছে। তাই তুলনা করলে চীনে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবসা পরিচালনা করা বেশ সহজ বলে মনে করেন তিনিসহ তার মতো অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মহামারি শুরুর পর চীনে মাস্ক, গ্লোভস, টেস্ট কিট আর পিপিইসহ স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছর মাস্ক তৈরি এবং বিক্রির জন্য নিবন্ধিত হয়েছে ৬৭’র বেশি কোম্পানি। সরকারও দিচ্ছে স্বল্প সুদে ঋণ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণের জন্য স্থানসহ প্রয়োজনীয় সব সহায়তা। চীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ নীতির আওতায় ৩০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করা হবে আমদানি নির্ভর পণ্যগুলো দেশে তৈরির জন্য। সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

সরকারও দিচ্ছে ভর্তুকি। ভেন্টিলেটর আর অন্যান্য আইসিউ সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শেনঝেন মিনড্রে পেয়েছে দেড় কোটি ডলার ঋণ। মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উইনার মেডিকেল পেয়েছে ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার ঋণ। হাসপাতালগুলোও দেশীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী কিনছে।

চীনের স্থানীয় সরকার, শুধু শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল এসব পণ্য আমদানি করতে পারবে। বাকি হাসপাতালগুলোকে চীনা পণ্যই কিনতে হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ৭ হাজার কোটি পিস মাস্ক রফতানি করেছে চীন। গেলো বছর ২ হাজার কোটি পিস মাস্ক তৈরি হয়েছে সারা বিশ্বে, যেখানে চীনেই তৈরি হয়েছে অর্ধেক মাস্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here