বগুড়ায় সখের গাড়ি বিক্রি করে ঈদে ৭ হাজার অসহায় শিশুর পাশে দাড়াতে চান ব্যবসায়ী নাহারুল ইসলাম-সুপ্রভাত বগুড়া

সুপ্রভাত বগুড়া (স্বাধীন মতামত): বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব দিশেহারা। দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিলে ছয়লাব। বিশ্ব জুড়ে চরছে লকডাইন। যার ভয়াবহ ছোবল থেকে বাদ পরেনি বাংলাদেশও। এই পরিস্থিতিতে সব থেকে অসহায় ও ভয়াল সময় কাটাচ্ছেন দেশের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

সরকারীভাবে নানামুখি পদক্ষেপ ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এইসব অসহায় মানুষের খাদ্য নিশ্চয়তার জন্য। এর পাশাপাশি দেশের স্বচ্ছল ও দানশীল মানুষগুলোও ঝাপিয়ে পড়েছেন, দেশের এই ক্রন্তিকালে অসহায়ের বন্ধু হয়ে, বাড়িয়েছেন সাহার্যের হাত।

সরকারি মালামাল সাধারণ মানুষের হাতে পৌছে দিতে গিয়ে যখন একদল অমানুষ হয়তো নিজের আখের গোছানোর জন্য ব্যস্থ, কিন্তু সমাজের হৃদয়বানদের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

দেশের এই দু:সময়ে সেই সকল মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে যারা নিজের সর্বস্ব দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান। তেমনি একজন মহান ব্যক্তির্ত্বের নাম সমাজ সেবক আব্দুল মান্নান আকন্দ। যে মানুষটির জন্য বগুড়াবাসী গর্বিত। যিনি প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জন্য অন্ন বস্ত্রের সংস্থান করে চলেছেন।

শুধু তাই নয় তার যে সকল সহচর তার ব্যক্তিত্বের এক একটি প্রতিচ্ছবি হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলেছেন তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী নাহারুল ইসলাম অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব। আব্দুল মান্নান আকন্দের প্রত্যেকটি সামাজিক ও মানবীয় কাজে তিনি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অগ্রনী ভুমিকায় থাকেন।

তথাপিও স্বহৃদয়বান এই মানুষটিও একান্ত নিজের জায়গা থেকে অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চান, বিশেষ করে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের দু:খ দুর্দশা তাকে দারুনভাবে ব্যথিত করেছে। তাই তিনি বগুড়ার প্রায় ৭ হাজার শিশুদের মুখে ঈদের হাসি দেখার জন্য ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন নিজের ফেসবুক পেজে। যা এই প্রতিবেদককেও আবেগাপ্লুত করে তুলেছে।

হয়তো এই প্রতিবেদন হতে পারে হাজারো হৃদয়বানদের অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর এবং অনুপ্রেরনা দানের জন্য এক জীবন্ত উদাহরণ-

ফেসবুকে নাহারুল ইসলামের “দুটি কথা” : “দে‌শে করোনা পরিস্থিতির পর থে‌কে বগুড়া শহরে অসহায় পরিবারে যথাসাধ্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন শুকরা এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও কালের কন্ঠের পাঠক ফোরাম শুভসংঘ বগুড়া জেলার প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান আকন্দ ।

‌বিগত দুই বছর যাবৎ তি‌নি বগুড়া শহরের ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাতা কলম ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী বিতরণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থাভাবে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ করে দেয়াসহ, করোনা পরিস্থিতিতে বগুড়া শহরে বর্তমানে ১৪ হাজার অসহায় মানুষকে প্র‌তি‌দিন খাবার সরবরাহ কর‌ছেন। আ‌মি তার সংগে মহৎ কা‌জের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত আছি।

এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, দেশের স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকা কালের কন্ঠের পাঠক ফোরাম শুভসংঘ বগুড়া জেলা শাখার আমিও একজন উপদেষ্টা । বিভিন্ন সময় শুভসংঘের ব্যানারে ‌বি‌ভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজে অংশ গ্রহণ করি। প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান আকন্দ ভাইয়ের সমাজ সেবা মূলক কাজ এবং কালের কন্ঠ পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন স্যার ও বগুড়া ব্যুরো প্রধান লিমন বাসার ভাইয়ের অনুপ্রেরণা আমাকে আকৃষ্ট করে ।

দে‌শের এই ক্রা‌ন্তিল‌গ্নে আমারও মন চায় ব্য‌ক্তিগত উ‌দ্যো‌গে করোনা পরিস্থিতিতে কিছু করার। কিন্তু সাধ থাকলেও মুহু‌র্তে সেই সাধ্য আমার নাই।আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী,করোনার ফলে ব্যবসা ও বন্ধ ।

পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কিছু জ‌মিসহ যত সামান্য সম্পত্তি আমার রয়েছে। এই মুহুর্তে কোনও নগদ অর্থ আমার হাতে নাই। করোনা পরিস্থিতিতে সম্পত্তি বিক্রয়েরও কোনও সুযোগ দেখছি না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি , আমার ব্য‌ক্তিগত ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি বিক্রয় করে সমুদয় টাকা ঈদের আগেই বগুড়ার বি‌ভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও অন্যান্য অসহায় ৫/৭ হাজার শিশুদের মাঝে ঈদের নতুন জামা কাপড় এবং সেমাই, পোলাও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিব। (অবশ্যই সামা‌জিক দূরত্ব বজায় রে‌খে)

আমি আরো কথা দিচ্ছি যে এই গাড়ি বি‌ক্রির একটি টাকাও আমার সংসারের কাজে ব্যয় হবে না। জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভাল। আপনারা আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন !! শিশু‌দের জন্য নেয়া এই উ‌দ্যোগ‌টি সম্পূর্ণ কালের কন্ঠের পাঠক ফোরাম শুভসংঘের ব্যানারে হবে।

ত‌বে এই সংকটময় পরিস্থিতির কারণে যেহেতু ক্রেতাদের সংগে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই ফেসবূকে গা‌ড়ি বিক্রির পোস্টটি দিলাম। গাড়িটি ২০০৪ এর মডেল, ২০০৯ এর রেজিসেট্রশন। আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত কাগজ পত্র ওকে আ‌ছে। এটার ডিজিটাল ব্লু বুক ও এক্স ক‌রোলা জাপান মেইড। রং সাদা।”

আগ্রহী ক্রেতাদের আমার মোবাইল নং এ যোগাযোগ করতে অনুরোধ রইল : ০১৮৪২-১৮২৪২৩, ঠিকানা : প্রত্যাশা হাউজিং, নামাজগড় রোড বগুড়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here