করোনা সংকট: ১৯৩০ সালের পর তীব্র সঙ্কটের মুখোমুখি বিশ্ব অর্থনীতি!

সুপ্রভাত বগুড়া (ব্যবসা-বাণিজ্য): নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে মহাসঙ্কটে বিশ্ব অর্থনীতি। তাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ১৯৩০ সালের মন্দার পর এবারই বিশ্ব সবচেয়ে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। যা আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেকারত্বের হার বজায় থাকবে বলেও আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ওদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যেই ৫শ বিলিয়ন ইউরো প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন। মাত্র দুই মাস আগেও করোনাভাইরাস ছিল শুধু চীনকেন্দ্রিক একটি সংকট। কিন্তু এটি অতি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ায়, ভাইরাসটির কারণে এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোকে।

এ মহামারি ঠেকানোর পাশাপাশি এক মহা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে আক্রান্ত দেশগুলোর অর্থনীতি বাঁচানোর জন্যও। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আশঙ্কা করছে চলতি বছর ১৭০টি দেশের মাথাপিছু আয়ের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে।

সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে মহামারীর এ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে “তীব্র নেতিবাচক” অবস্থায় রূপান্তরিত করবে। যদি এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে মহামারির প্রকোপ কমে তাহলে আগামী বছর আংশিক পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেও জানান আইএমএফ’র প্রধান। এদিকে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ’র জোটের অর্থমন্ত্রীরা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ৫০০ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দে সম্মতও হয়েছেন।

ব্রাসেলসে দীর্ঘ আলোচনার পরে ইউরো জোটের চেয়ারম্যান মারিয়ো সেন্টেন্তো এই চুক্তির ঘোষণা দেন। তবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউরো প্রণোদনার প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছিল তার চেয়ে এ বরাদ্দ অনেক কম। তারপরও ফরাসী অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মায়ার এই চুক্তিকে ইইউ’র ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হিসাবে প্রশংসা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর বিজনেস ইকোনমিক্সের সমীক্ষায় ৪৫ জন অর্থনীতিবিদ পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এরই মধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে মন্দা শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের প্রথমার্ধে সংকোচনের মধ্যে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবগুলো রাজ্য। যার ফলে প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাবে এবং বাড়বে বেকারত্বও।

আর অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, ২০২১ সালের মধ্যে ২ মিলিয়নের মত কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তবে শ্রমবাজারে করোনার ব্যাপক প্রভাবে বেকারত্বের হার পরবর্তী ২১ মাস ৬ শতাংশের উপরে থাকবে।

এতো খারাপ খবরের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে। রেকর্ড পতন ও মন্দা অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার সত্ত্বেও দেশটির পুঁজিবাজার ভেঙ্গেছে সাপ্তাহিক মুনাফার ৪৬ বছরের রেকর্ডও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here