বগুড়ার কাহলু উপজেলার ধাওয়াপাড়ায় স্থানীয় মেম্বার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে দিলেন!! প্রতিকী-ছবি

সুপ্রভাত বগুড়া (রায়হানুল ইসলাম): বগুড়ার কাহলু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়ায় মোটা অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় মেম্বার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে দিলেন! আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উভয়পক্ষকে মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্চুক স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা গেছে, গত আনুমানিক ২০-২৫ দিন আগে ধাওয়াপাড়ার দক্ষিণপাড়ার তারাজুলের ছেলে আবু জাফর একই এলাকার আনিসারের নাতনি (ঢাকায় গার্মেন্টস-এ কর্মরত রেশমার মেয়ে) মিম-কে জোর করে তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে মেয়ের মা রেশমা কাহালু থানায় একটি অভিযোগ করেন।

পরে অভিযোগের তদন্তকর্মকর্তা গুলবাহার সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে চলে আসে। জানা গেছে, উভয়েই নাবালক-নাবালিকা হওয়ায় অজানা কারণে পুলিশ নিরব হয়ে যান। এই সুযোগে তাদের আনুমানিক ১৮-২০ দিন পর উদ্ধার করে বিচার শালিশ করে ১২ বছর বয়সী নাবালিকা ৪র্থ শ্রেণীর ঐ ছাত্রীকে বগুড়ার কাহলু উপজেলার, মুরইল ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়ার স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবু বক্কর এই বিয়ে দিয়েছেন রব ওঠে।

এই ঘটনার সত্যতায় ধাওয়াপাড়ার দক্ষিণপাড়ার তারাজুল ইসলামের স্ত্রী ধলী বেগম (ছেলের মা) মেম্বারের (আবু বক্কর) সহায়তায় বিচার শালিশের মাধ্যমে সমাধানের কথা স্বীকার করলেও স্থানীয় মেম্বার আবু বক্কর সাংবাদিকদের মোবাইলে জানিয়েছেন, ২০-২৫ দিন আগে তারাজুলের ছেলে আবু জাফর ও একই এলাকার (পিতা-মাতার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।) আনিসারের নাতনি মিম পালিয়ে যায়।

কিন্তু বিচারের নাম করে ধরে তাদের পুলিশে দিবো। কিন্তু গত ৩-৪ দিন ধরে তাদেরকে ধরে আনা হয়েছে বলে স্থানীয়রা ও ছেলের মা জানিয়েছেন। মেয়ের নানা আনিসার রহমানও জানিয়েছেন, মেম্বার আবু বক্কর বিচার শালিশ করে দেড় লক্ষ টাকা দেন মহোরানায় বিয়ে দিয়েছে বলে শুনেছি।

কোথায়, কোন কাজীর কাছে তা আমার জানা নেই। পরবর্তীতে কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল বারী এর কাছে ঐ অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা মর্মে জানতে চাইলে তিনি, যে তদন্তে গিয়েছিলো তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

পরে গুলবাহারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, মেয়ের মা আপোষ করেছে বলায় আমরা আর কোন পদক্ষেপ নেইনি। তবে নাবালিকার বিয়ে এবং সেই মর্মে অভিযোগে আইনগত দিক কি হওয়া উচিৎ ছিল জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

তবে এবিষয়ে কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাছুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। তবে খোঁজ খবর নিয়ে আমরা সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here