নওগাঁর মান্দায় যৌন উত্তেজক ঔষধ খাইয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ। ছবি-অন্তর আহম্মেদ

সুপ্রভাত বগুড়া (অন্তর আহম্মেদ  নওগাঁ ): নওগাঁর মান্দায় উপজলার কাশােঁপাড়া উচ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) রেজাউল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত মেধা বৃত্তির প্রলোবন দেখিয়ে যৌন উত্তোজক ও চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে ওই বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযােগ উঠেছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল পলাতক রয়েছেন। এঘটনায় দষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী  স্থানীয়দের। সরজমিনে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ বুধবার স্কুল ছুটির দিন সকাল ১০ টায় বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণী কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় ঘটনার ২দিন পর ২৭ মার্চ শুক্রবার স্কুল ম্যানজিং কমিটির জরুরি মিটিংয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযােগ অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হক এরকম কাজ বারবার করেছে। এর আগে এক ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা ওই ছাত্রীর সাথেই তাকে বিবাহ দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দিলেও থেমে থাকেনি তার অপকর্ম।

স্কুল  প্রাইভেট-কাচিংয়ের সুযােগ নিয়ে ছাত্রীদর মেধা বৃদ্ধি হবে এমন মিথ্যা কথা বলে প্রথম যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ায় ওই শিক্ষক। তারপর ওই ছাত্রীর সাথে সেক্সুয়াল কথা বার্তা বলে যৌন উত্তেজিত করে তাকে ধর্ষন করতেন পরবর্তীতে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধ্য করতেন শিক্ষক রেজাউল হক।

সবশেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার সকাল ১০ টায় স্কুল ছুটির দিন স্কুলের একটি রুমে একই ঘটনা ঘটিয়েছে ১০ম শ্রণীর এক ছাত্রীর সাথে। শিক্ষক রেজাউল হকের দষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করে ওই ছাত্রীর বাবা এমদাদুল হক বলেন, আমার মেয়েকে যৌন উত্তেজক ঔষধ খাইয়েছে ওই শিক্ষক।

একই অভিযাগ পাওয়া গেছে ৯ম-১০ম শ্রনির একাধিক ছাত্রীর বাবা-মার কাছ থেকে। স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক এক জরুরী সভার মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শুধু বরখাস্তই নয় এই লম্পট শিক্ষকের আমরা দষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই। এবিষয় কাঁশােপাড়া উচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মােঃ মকসেদ আলী প্রামানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে রেজাউল হককে ডেকে এবিষয় ব্যাখা চেয়েছিলাম।

রেজাউল তাঁর অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেছেন ভবিষ্যত তিনি এমন কাজ আর করবন না। বিদ্যালয়ের সভাপতি আল-মামনুর রশিদ (আলম) বলেন, গত ২৫ তারিখের ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি প্রধান শিক্ষককে জরুরি মিটিং কল করতে বলেছিলাম। ২৭ তারিখের ওই মিটিংয়ে শিক্ষক রেজাউল হক তাঁর অপরাধ স্বীকার করে নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছেন।

মিটিংয়ের পরবর্তী দিন শনিবার (২৮ মার্চ) তার পদত্যাগের বিষয় চুড়ান্ত সীদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমি নিজও ওই বিদ্যালয়র ছাত্র ছিলাম। আমার কাছ আগে প্রতিষ্ঠান পরে শিক্ষক। এমন শিক্ষকের জন্য আমি প্রতিষ্ঠান নষ্ট করতে পারিনা।

এবিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি ওই ছাত্রীর সাথে রুমে শুধু গল্প করেছি এবং বলেছি আজ স্কুল এবং প্রাইভেট ছুটি আছে তুমি স্কুল থেকে চলে যাও। আমি তাঁর সাথে কােন খারাপ কিছু করিনি। এটা একটা চক্রান্ত।

অপরাধ না করে থাকলে পদত্যাগ করলেন কেন, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি কােন উত্তর দিতে পারেননি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মােঃ শাহ্ আলম শেখ বলেন, এখন পর্যন্ত আমি এবিষয় লিখিত কােন অভিযােগ পাইনি। অভিযােগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়ােজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here