সারা বিশ্বব্যাপী ৩০০ কোটির বেশি মানুষ এখন ঘরবন্দি।

সুপ্রভাত বগুড়া ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশে দেয়া হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। আর দেশগুলোর এসব পদক্ষেপের কারণে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ এখন যাপন করছে ঘরবন্দি জীবন। এরই মধ্যে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার লাখ পেরিয়ে গেছে, ২১ হাজারের ঘরে মৃতের সংখ্যা।

দেশেও এ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন চারজনসহ সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮। দেশে নতুন করে আরো চারজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৪৮ জনে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, আক্রান্তদের দুই জন চিকিৎসক, যারা করোনা রুগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন ঢাকায়, দু’জন ঢাকার বাইরের।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের ১৮২টি দেশে এখন পর্যন্ত কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে ২০ হাজার ৮০০ জনের। বিশ্বের অন্তত ৮২টি দেশ সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে। এতে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ১৩০ কোটি মানুষও।

জনসংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ দেশ তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে। গত বুধবার কভিড-১৯-এ আক্রান্ত আরো দুই রোগীর মৃত্যুর পর রাশিয়াও লকডাউনের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো।

এরই মধ্যে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ লকডাউন করা দেশগুলোর কোথাও কোথাও অফিস করতে হচ্ছে বাড়ি থেকে। আবার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে কোনো কোনো দেশে। সব মিলিয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবন।

বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা তহবিল গঠনের পর জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘মহামারী মোকাবেলায় সারা বিশ্বকে এক হয়েই লড়তে হবে। কভিড-১৯ পুরো মানবজাতির জন্য হুমকি, তাই সমগ্র মানবজাতিকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

এ মুহূর্তে বৈশ্বিক পদক্ষেপ ও সংহতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিচ্ছিন্নভাবে একেকটি দেশের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়।’ ইতালির পর স্পেনেও কভিড-১৯-এ মৃত্যুর সংখ্যা চীনকে ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কভিড-১৯-এ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তারাও। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হতে যাচ্ছে, তা এক দশক আগের মন্দার চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত মার্কিন অর্থনীতিকে টেনে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পুনর্বাসন প্রকল্প ঘোষণার পর দেশটির শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২১ হাজার ২০০ জন।

ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৫। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৮ জন। আর বাকি ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮৭ জনের শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। চিকিৎসাধীন এসব মানুষের মধ্যে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ১৪ হাজার ৭৯২ জনের অবস্থা গুরুতর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here